ডেস্ক: বিশ্বকাপ মানেই শুধু ফুটবলের উৎসব নয়, নিরাপত্তাও বড় আলোচনার বিষয়। ২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে লক্ষ লক্ষ দর্শক, হাজারো কর্মকর্তা এবং শতাধিক দেশের মানুষের আগমনে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
২০২৬ বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসর। প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ একসঙ্গে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে। মোট ৪৮টি দল অংশ নেওয়ায় আগের যেকোনো বিশ্বকাপের তুলনায় দর্শক ও ভ্রমণকারীর সংখ্যাও অনেক বেশি। এই কারণেই তিনটি দেশ নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ, সীমান্ত নিরাপত্তা সংস্থা, ফেডারেল তদন্ত ব্যুরো এবং স্থানীয় পুলিশ একসঙ্গে কাজ করছে।
স্টেডিয়ামের ভেতর থেকে শুরু করে বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, হোটেল, পর্যটন এলাকা এবং বড় শহরগুলোতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। উন্নত ক্যামেরা, ড্রোন, ফেইস শনাক্তকরণ প্রযুক্তি এবং AI পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাও ব্যবহার করা হচ্ছে।
শুধু স্টেডিয়ামের নিরাপত্তাই নয়, সীমান্তেও বাড়ানো হয়েছে তৎপরতা। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শক যাতায়াত করছেন। তাই অতিরিক্ত ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা, কাস্টমস টিম এবং নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সন্দেহজনক কার্যক্রম দ্রুত শনাক্ত করতে তিন দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো নিজেদের মধ্যে তথ্যও আদান-প্রদান করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বড় আন্তর্জাতিক আয়োজনের সময় সন্ত্রাসবাদ, সাইবার হামলা, টিকিট জালিয়াতি, ভুয়া পরিচয়পত্র এবং অনলাইন প্রতারণার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই এবার শুধু মাঠে নয়, অনলাইনেও কড়া নজর রাখা হচ্ছে। দর্শকদেরও অপরিচিত ওয়েবসাইট থেকে টিকিট না কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর একটি অংশ বলছে, নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি হলেও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির কারণে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। বিশেষ করে ফেইস শনাক্তকরণ প্রযুক্তি এবং ব্যাপক তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
তবে আয়োজক দেশগুলোর দাবি, সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে শুধু জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য।
বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দর্শকও এবার বিশ্বকাপ দেখতে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে গেছেন। তাই ভ্রমণের আগে ভিসা, পরিচয়পত্র, ম্যাচের টিকিট এবং ভ্রমণসংক্রান্ত সব কাগজপত্র ঠিক রাখার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিমানবন্দর ও স্টেডিয়ামে অতিরিক্ত নিরাপত্তা তল্লাশির কারণে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই পৌঁছানোর কথাও বলা হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই বিশ্বকাপ ভবিষ্যতের বড় আন্তর্জাতিক আয়োজনগুলোর জন্যও একটি মডেল হয়ে থাকতে পারে। কারণ তিনটি দেশ প্রথমবারের মতো এত বড় পরিসরে যৌথভাবে নিরাপত্তা সমন্বয় করছে।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ বিশ্বকাপের সময় দর্শকদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাই এখন আয়োজকদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আর সেই লক্ষ্যেই সীমান্ত থেকে স্টেডিয়াম সবখানেই চলছে নজিরবিহীন প্রস্তুতি।


