ডেস্ক: বাংলাদেশে পেপ্যাল আসার পথ এবার সত্যিই কিছুটা সহজ হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন একটি ফ্রেমওয়ার্ক চালু করেছে, যার মাধ্যমে দেশের ব্যাংকগুলো পেপ্যাল, পেওনিয়ারসহ বিদেশি পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে পার্টনার করতে পারবে। কিন্তু প্রশ্ন একটাই,এবার কি সত্যিই পেপ্যাল আসবে, নাকি আগের মতো এটাও শুধু আশা হয়েই থাকবে?
বাংলাদেশে পেপ্যাল নিয়ে আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন সময়ে পেপ্যাল আসার খবর এসেছে। কিন্তু বাংলাদেশি ব্যবহারকারীরা এখনো সরাসরি পেপ্যাল অ্যাকাউন্ট খুলে টাকা রিসিভ ও ব্যাংকে তুলতে পারেন না। ফলে ফ্রিল্যান্সার ও অনলাইন ব্যবসায়ীদের অনেকেই পেওনিয়ার বা অন্য প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভর করেন।
তবে এবার পরিস্থিতিতে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন ব্যাংকের মাধ্যমে ক্রস-বর্ডার ডিজিটাল পেমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক চালু করেছে। এর আওতায় স্থানীয় ব্যাংকগুলো বিদেশি পেমেন্ট সার্ভিস ও পেমেন্ট গেটওয়ের সঙ্গে চুক্তি করতে পারবে। পেপ্যাল ও পেওনিয়ারের মতো প্ল্যাটফর্মের জন্য এটিই বাংলাদেশে কাজ করার একটি নিয়ন্ত্রিত পথ তৈরি করছে।
এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হতে পারে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য। বিদেশি ক্লায়েন্টের কাছ থেকে টাকা নেওয়া সহজ হলে পেমেন্টের ঝামেলা কমবে। ছোট অনলাইন ব্যবসা, সফটওয়্যার কোম্পানি ও সার্ভিস এক্সপোর্টাররাও আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টের সঙ্গে সহজে লেনদেন করতে পারবেন। একই সঙ্গে বৈধ চ্যানেলে ডলার দেশে আসায় বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন আরও স্বচ্ছ হতে পারে।
তবে কিছু ঝুঁকিও আছে। পেপ্যাল বা এ ধরনের সার্ভিস চালু হলে ট্রানজ্যাকশন ফি, কারেন্সি কনভার্সন চার্জ এবং ব্যাংক চার্জ ব্যবহারকারীদের ওপর বাড়তি খরচ তৈরি করতে পারে। আর আন্তর্জাতিক লেনদেন বাড়ার সঙ্গে প্রতারণা, মানি লন্ডারিং ও সাইবার সিকিউরিটির ঝুঁকিও বাড়বে। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোর পার্টনারশিপ, প্রযুক্তি ও কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থা যাচাই করে অনুমোদন দেওয়ার কথা বলেছে।
আর এখানেই মূল প্রশ্ন,পেপ্যাল আসার সম্ভাবনা কতটা? এবার আগের চেয়ে পরিস্থিতি অনেক বেশি বাস্তব। কারণ শুধু কথায় নয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে এমন একটি রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে স্থানীয় ব্যাংকগুলো আন্তর্জাতিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে কাজ করতে পারবে। তবে এটাকে এখনো বাংলাদেশে পেপ্যালের পূর্ণাঙ্গ লঞ্চ বলা যাবে না। পেপ্যালকে পূর্ণাঙ্গভাবে বাংলাদেশে সার্ভিস চালু করতে হবে এবং স্থানীয় ব্যাংকের সঙ্গে পার্টনারশিপ তৈরি করতে হবে।
সব মিলিয়ে, এবার পেপ্যাল আসার রাস্তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে পরিষ্কার। কিন্তু ঘোষণা আর বাস্তবে সার্ভিস চালু এই দুটির মধ্যে পার্থক্য এখনো আছে। তাই বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের জন্য আসল সুখবর হবে সেদিনই, যেদিন তারা বৈধভাবে বাংলাদেশি ঠিকানা ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট দিয়ে পেপ্যাল ব্যবহার করে টাকা রিসিভ ও উইথড্র করতে পারবেন।


