মানুষের মস্তিষ্ক পড়ার প্রযুক্তি কতদূর এগিয়েছে? ভবিষ্যতে তোমার চিন্তাও কি ব্যক্তিগত থাকবে না?

ডেস্ক: একসময় মানুষের মস্তিষ্কে কি চিন্তা চলছে তা পড়ে ফেলা ছিল সায়েন্স ফিকশন। কিন্তু এখন বিজ্ঞানীরা মস্তিষ্কের সিগন্যাল বিশ্লেষণ করে মানুষের বলা বা মনে মনে ভাবা শব্দের কিছু অংশ বুঝতে পারছেন। এতে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগছে,তাহলে ভবিষ্যতে আমাদের চিন্তাও কি আর ব্যক্তিগত থাকবে না?

এই প্রযুক্তিকে বলা হয় ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেস বা BCI। মস্তিষ্কের সিগন্যাল কম্পিউটারে পাঠিয়ে সেখান থেকে মানুষের উদ্দেশ্য বা কথার অর্থ বোঝার চেষ্টা করা হয়। শুরুতে এর প্রধান লক্ষ্য ছিল প্যারালাইসিসে আক্রান্ত মানুষকে আবার যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া।

সাম্প্রতিক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এমন প্রযুক্তি তৈরি করেছেন, যা মানুষ মনে মনে বলা কিছু শব্দের সিগন্যাল শনাক্ত করতে পারে। আবার fMRI ব্যবহার করে একজন মানুষ কী দেখছে বা কী ধরনের দৃশ্য কল্পনা করছে, সেটিও মস্তিষ্কের কার্যকলাপ থেকে অনুমান করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এগুলো এখনো সীমিত গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে। মানুষের মাথার ভেতরের সব চিন্তা ইচ্ছেমতো পড়ে ফেলার প্রযুক্তি এখনো তৈরি হয়নি।

তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। প্রযুক্তি আরও শক্তিশালী হলে মস্তিষ্কের ডেটা কে সংগ্রহ করবে, কোথায় ব্যবহার করবে এবং মানুষের অনুমতি ছাড়া তা নেওয়া যাবে কি না—এসব বড় প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে। এ কারণেই নিউরোটেকনোলজি ব্যবহারে মানুষের মস্তিষ্কের গোপনীয়তা রক্ষার ওপর জোর দিচ্ছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।

অন্যদিকে এই প্রযুক্তির ভালো দিকও বিশাল। কথা বলতে না পারা মানুষকে যোগাযোগে সাহায্য করা, প্যারালাইসিসে আক্রান্ত ব্যক্তিকে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেওয়া এবং ভবিষ্যতে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় এটি কাজে লাগতে পারে।

সব মিলিয়ে, মানুষের চিন্তা পড়ার প্রযুক্তি এখনো অনেক দূরের বিষয়। কিন্তু বিজ্ঞান যে সেই দিকেই এগোচ্ছে, সেটি স্পষ্ট। তাই ভবিষ্যতে শুধু প্রযুক্তি কতটা উন্নত হবে সেটাই নয়, আমাদের মস্তিষ্কের তথ্যের ওপর অধিকার কার থাকবে—সেই প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

আরো খবর ➔
নারীর মস্তিষ্ক ছোট হলেও কর্মক্ষমতার পার্থক্য নেই