ডেস্ক: সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান এবার প্রতিরক্ষায় একসঙ্গে জোট বেঁধেছে ।মক্কায় স্বাক্ষরিত হওয়া নতুন চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে দেখা হবে। তাহলে কি মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় তৈরি হচ্ছে নতুন এক শক্তিশালী জোট?
তিন দেশই মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি, তবে তাদের শক্তির ধরন আলাদা। তুরস্কের রয়েছে শক্তিশালী সেনাবাহিনী, বড় প্রতিরক্ষা শিল্প এবং ন্যাটোর সদস্য হিসেবে দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতা। ড্রোন, যুদ্ধজাহাজ ও বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র তৈরিতেও দেশটি এগিয়ে।
অন্যদিকে পাকিস্তান একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ এবং তাদের রয়েছে বড় সামরিক বাহিনী ও দীর্ঘ যুদ্ধের অভিজ্ঞতা।
আর সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় শক্তি অর্থনীতি ও বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেট। ফলে তিন দেশের সামরিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি একসঙ্গে কাজ করলে জোটটির প্রভাব যথেষ্ট বড় হতে পারে।
তবে এই সম্পর্ক একদিনে তৈরি হয়নি। সৌদি আরব ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক কয়েক দশকের পুরোনো। ২০২৫ সালেই দুই দেশ এমন একটি চুক্তি করেছিল, যেখানে এক দেশের ওপর হামলাকে অন্য দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়। এবার তুরস্ক যুক্ত হওয়ায় সেই সম্পর্ক আরও বড় আকার পেল।
নতুন মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্টে তিন দেশ পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি যৌথ প্রতিরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এটিকে ন্যাটোর আর্টিকেল ৫-এর মতো বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তবে তিনি পরিষ্কার করেছেন, এই চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি।
এই জোটের সবচেয়ে বড় সুবিধা হতে পারে ডিটারেন্স, অর্থাৎ কাউকে হামলা করার আগে কয়েকবার ভাবতে বাধ্য করা। কারণ সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে তখন শুধু একটি দেশের সঙ্গে নয়, তিনটি দেশের প্রতিক্রিয়া নিয়েও হিসাব করতে হবে। গোয়েন্দা তথ্য, সামরিক প্রশিক্ষণ, অস্ত্র ও প্রযুক্তি বিনিময়ও ভবিষ্যতে বাড়তে পারে।
তবে এটাকে এখনই নতুন কোনো ‘মুসলিম ন্যাটো’ বলা ঠিক হবে না। তিন দেশের সামরিক কাঠামো, ভৌগোলিক অবস্থান এবং নিজেদের জাতীয় স্বার্থ এক নয়। কোনো দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দুই দেশ ঠিক কী ধরনের সামরিক সহায়তা দেবে, সেটিও এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। তাই চুক্তির আসল শক্তি বোঝা যাবে বাস্তবে কোনো সংকট তৈরি হলে।
তারপরও এই জোটের প্রভাব কম নয়। তুরস্কের সামরিক সক্ষমতা, পাকিস্তানের পারমাণবিক শক্তি এবং সৌদি আরবের অর্থনৈতিক ক্ষমতা একসঙ্গে কাজ করলে পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য নতুন অপশন তৈরি করতে পারবে এই দেশগুলো।
আর ভবিষ্যতে মিশরসহ অন্য দেশগুলোও যুক্ত হলে এই জোট আরও বড় হতে পারে। তবে পশ্চিমা আধিপত্য ‘চিরতরে শেষ’ হয়ে যাবে,এমন চিন্তা করা এখনই ঠিক হবে না।


