ডেস্ক: নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের পরিচয় এখন শুধু প্রবাসী হিসেবে নয়, সফল উদ্যোক্তা হিসেবেও। ছোট ব্যবসা দিয়ে শুরু করে অনেকেই আজ বড় প্রতিষ্ঠানের মালিক।
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বড় কমিউনিটিগুলোর একটি রয়েছে নিউইয়র্কে। বিশেষ করে কুইন্সের জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা, ব্রুকলিন ও ব্রঙ্কস এলাকায় বাংলাদেশি মালিকানাধীন ব্যবসার সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে। আগে যেখানে বেশিরভাগ মানুষ মুদি দোকান বা রেস্টুরেন্টে সীমাবদ্ধ ছিলেন, এখন সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে।
সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি এখনো খাবারের ব্যবসায় রয়েছেন। রেস্টুরেন্ট, বেকারি, ক্যাফে, হালাল মাংসের দোকান এবং সুপারশপে তাদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি। শুধু বাংলাদেশি নয়, বিভিন্ন দেশের ক্রেতারাও এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত আসছেন।
এর পাশাপাশি পোশাক, আমদানি-রপ্তানি, পরিবহন, রিয়েল এস্টেট এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশিরা এগিয়ে আসছেন। বিশেষ করে সফটওয়্যার, ডিজিটাল সেবা এবং অনলাইন ব্যবসায় অনেক তরুণ উদ্যোক্তা নিজেদের জায়গা তৈরি করছেন। অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকেও কর্মী নিয়ে কাজ করছেন।
ব্যবসা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশিদের সাফল্যের বড় কারণ হলো কঠোর পরিশ্রম, পারিবারিক সহযোগিতা এবং কমিউনিটির শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। নতুন উদ্যোক্তারা আগের প্রজন্মের অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সহযোগিতা পাচ্ছেন, যা তাদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করছে।
তবে চ্যালেঞ্জও রয়েছে। নিউইয়র্কে দোকান ভাড়া, কর্মচারীর বেতন এবং অন্যান্য খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। অনলাইন ব্যবসার প্রতিযোগিতাও এখন অনেক বেশি। তাই বাজারে টিকে থাকতে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার এবং ভালো সেবার ওপর গুরুত্ব দিতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী কয়েক বছরে প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক সেবা এবং ই-কমার্স খাতে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে। কারণ নতুন প্রজন্মের অনেকেই উচ্চশিক্ষা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা নিয়ে ব্যবসায় নামছেন।
সব মিলিয়ে, নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের ব্যবসা এখন শুধু নিজেদের আয়ের উৎস নয়, স্থানীয় অর্থনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ছোট দোকান থেকে শুরু করে বড় প্রতিষ্ঠান সবখানেই বাংলাদেশিরা ধীরে ধীরে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছেন। আর এই সাফল্য প্রমাণ করছে, সুযোগ পেলে বাংলাদেশি উদ্যোক্তারাও আন্তর্জাতিক বাজারে সফলভাবে প্রতিযোগিতা করতে পারেন।


