ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে কর্মভিত্তিক ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটধারীদের জন্য নতুন একটি প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অভিবাসন নিয়মে ছোটখাটো ভুল বা তথ্যগত অসঙ্গতির ক্ষেত্রেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আলোচনা বিদেশি কর্মীদের মধ্যে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরেই কর্মভিত্তিক ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম চালু রয়েছে। চাকরি, ঠিকানা, নিয়োগকর্তা বা অভিবাসন–সংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা সবসময়ই বাধ্যতামূলক। তবে অতীতে ছোটখাটো প্রশাসনিক ভুলের ক্ষেত্রে অনেক সময় সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হতো।
সম্প্রতি অভিবাসন নীতিতে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, আবেদনপত্রে ভুল তথ্য, প্রয়োজনীয় তথ্য সময়মতো হালনাগাদ না করা বা ভিসার শর্ত ভঙ্গের মতো বিষয়গুলো আরও কঠোরভাবে বিবেচনা করা হতে পারে। এ কারণে বিদেশি কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ইচ্ছাকৃত জালিয়াতি ও সাধারণ ভুল—দুটিকে একইভাবে দেখা উচিত নয়। অনেক সময় নিয়ম না জানার কারণে বা কাগজপত্রের ছোট ভুলের জন্যও জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই নতুন নিয়ম কার্যকর হলে আবেদনকারীদের আরও সতর্ক থাকতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, প্রকৌশল ও গবেষণাসহ বিভিন্ন খাতে লাখো বিদেশি কর্মী কাজ করছেন। তাদের অনেকেই কর্মভিত্তিক ভিসার ওপর নির্ভরশীল। ফলে নিয়ম আরও কঠোর হলে শুধু কর্মীরাই নয়, দক্ষ জনবলনির্ভর অনেক প্রতিষ্ঠানও প্রভাবিত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন প্রস্তাবের উদ্দেশ্য যদি অভিবাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানো হয়, তাহলে তা ইতিবাচক হতে পারে। তবে সামান্য ভুলের জন্য ওয়ার্ক পারমিট বাতিলের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে অনেক যোগ্য কর্মী অযথা সমস্যায় পড়তে পারেন। এতে দক্ষ জনবল ধরে রাখাও কঠিন হয়ে যেতে পারে।
ভবিষ্যতে এই প্রস্তাব কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে অভিবাসন আইনজীবীরা বিদেশি কর্মীদের সব কাগজপত্র হালনাগাদ রাখা, নিয়োগকর্তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা এবং প্রয়োজনে আইনি পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অভিবাসন প্রস্তাব বিদেশি কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এখন নজর থাকবে, প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদন পায় কি না এবং তা বাস্তবায়ন হলে কর্মভিত্তিক ভিসাধারীদের ওপর কতটা প্রভাব পড়ে।


