চাকরি হারিয়ে ১৪ বছর পর পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়লেন সাবেক মেটা কর্মী ভাইরাল হলো হৃদয়বিদারক

ডেস্ক: চাকরি হারিয়ে ১৪ বছর পর পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন মেটার সাবেক কর্মী শ্রীধর ভাঙ্কা। তাঁর আবেগঘন বিদায়বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর আবারও কর্মভিত্তিক ভিসা, অভিবাসন নীতি এবং বিদেশি কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ফারজানা মিথিলার প্রতিবেদনে দেখুন বিস্তারিত।

ভারতের প্রযুক্তি পেশাজীবী শ্রীধর ভাঙ্কা গত ১৪ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন। কর্মজীবনে তিনি টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস, অ্যামাজন এবং সর্বশেষ মেটায় কাজ করেছেন। মেটায় তিনি টেকনিক্যাল প্রোগ্রাম ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। কিন্তু চলতি বছরের মে মাসে মেটার কর্মী ছাঁটাইয়ের সময় তিনিও চাকরি হারান।

চাকরি হারানোর পর শ্রীধর ভাঙ্কার সামনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় তাঁর অভিবাসন অবস্থান। তিনি এইচ-১বি ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। এই ভিসার নিয়ম অনুযায়ী চাকরি চলে গেলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন চাকরি না পেলে দেশ ছেড়ে যেতে হয়। নতুন চাকরি খুঁজে না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ভারতে ফিরে যাওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

লিংকডইনে দেওয়া এক পোস্টে শ্রীধর ভাঙ্কা লেখেন, গত সাত সপ্তাহ তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি। আশা, অনিশ্চয়তা, উদ্বেগ এবং দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যে দিন কেটেছে। তিনি আরও বলেন, অভিবাসন সংক্রান্ত সময়সীমার কারণে বেশ কয়েকটি ভালো চাকরির সুযোগও নিতে পারেননি। ১৪ বছরে গড়ে তোলা জীবন ছেড়ে চলে যাওয়া তাঁর এবং তাঁর পরিবারের জন্য খুবই কষ্টের। তাঁর এই পোস্ট দ্রুত ভাইরাল হয় এবং হাজারো মানুষ তাঁর প্রতি সমর্থন ও সহানুভূতি জানান।

বিশ্লেষকদের মতে, শ্রীধর ভাঙ্কার ঘটনা কোনো একক ঘটনা নয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে সাম্প্রতিক কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণে অনেক বিদেশি কর্মী একই ধরনের সমস্যায় পড়েছেন। বছরের পর বছর কাজ করার পরও স্থায়ী বসবাসের অনুমতি না পাওয়ায় চাকরি হারালেই তাদের দেশ ছাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষ করে ভারতীয় কর্মীদের ক্ষেত্রে গ্রিন কার্ডের দীর্ঘ অপেক্ষাও বড় একটি সমস্যা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষ বিদেশি কর্মীরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাই চাকরি হারানোর পর তাদের নতুন কাজ খুঁজে নেওয়ার জন্য আরও সময় বা সহজ নীতির দাবি অনেক দিন ধরেই উঠছে। অন্যদিকে কঠোর নিয়মের সমর্থকরা বলছেন, অভিবাসন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতেও স্পষ্ট নিয়ম প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, শ্রীধর ভাঙ্কার ভাইরাল পোস্ট শুধু একটি পরিবারের বিদায়ের গল্প নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রে কর্মভিত্তিক ভিসায় থাকা হাজারো বিদেশি কর্মীর বাস্তব চিত্রও তুলে ধরেছে। ভবিষ্যতে অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন আসে কি না, সেটিই এখন বিদেশি কর্মীদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।

আরো খবর ➔
ডার্ক ওয়েবে যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য বেচাকেনা বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সাররা কি এই বাজারে জড়াচ্ছে?