যে যুবক ভারতের রাজনীতিতে নতুন ঝড় তুলেছেন—কে এই অভিজিৎ?

যে যুবক ভারতের রাজনীতিতে নতুন ঝড় তুলেছেন—কে এই অভিজিৎ?

ডেস্ক: ভারতের নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ অভিজিৎ দিপকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর শুরু করা ককরোচ জনতা পার্টি এখন দেশজুড়ে আলোচনার বিষয়।

ভারতে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ নতুন নয়। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ বাড়ছিল। লাখো শিক্ষার্থী মনে করেন, কঠোর পরিশ্রম করেও তারা ন্যায্য মূল্যায়ন পাচ্ছেন না। এই ক্ষোভ থেকেই শুরু হয় বড় ধরনের আন্দোলন, যা পরে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

এই আন্দোলনের মধ্যেই আলোচনায় আসেন ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দিপকে। তিনি পেশায় রাজনৈতিক পরামর্শক। আন্দোলনের সময় ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্য নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়। তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কথা বলা স্টুডেন্টদেরকে “ককরোচ” বা “তেলাপোকা” বলে মন্তব্য করেছিলেন, যদিও পরে তিনি বলেন, তাঁর বক্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কিন্তু সেই মন্তব্যই আন্দোলনে নতুন মোড় এনে দেয়।

এরপর অভিজিৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ককরোচ জনতা পার্টি নামে একটি অ্যাকাউন্ট চালু করেন। খুব অল্প সময়েই লাখ লাখ তরুণ এই একাউন্টের সঙ্গে যুক্ত হন। তাদের মূল দাবি ছিল,নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। পরে এই আন্দোলন শুধু নিট নয়, বেকারত্ব, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং সরকারের জবাবদিহির দাবিতেও রূপ নেয়।

বর্তমানে দিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে আন্দোলনের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। ছাত্রদের বিক্ষোভ, মিছিল এবং অনলাইন প্রচারণা এখনও চলছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাদের ওপর পুলিশি বাধা এবং বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। অন্যদিকে সরকার বলছে, পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অভিজিৎ দিপকের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আন্দোলনকে রাজপথের আন্দোলনে রূপ দেওয়া। খুব অল্প সময়ে তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তরুণদের একটি সাধারণ দাবির পক্ষে একত্র করতে পেরেছেন। তবে এই আন্দোলন দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখা এবং বাস্তব রাজনৈতিক পরিবর্তন আনা সহজ হবে না।

ভবিষ্যতে সরকার যদি পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনে এবং শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে, তাহলে এই আন্দোলনের ইতিবাচক প্রভাব দেখা যেতে পারে। আর যদি দাবি উপেক্ষিত হয়, তাহলে আন্দোলন আরও বড় আকার নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

সব মিলিয়ে, অভিজিৎ দিপকে এখন শুধু একজন তরুণ আন্দোলনকর্মীর নয়; তিনি ভারতের লাখো শিক্ষার্থীর ন্যায্য অধিকার ও জবাবদিহির দাবির একটি পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। আগামী দিনে তাঁর নেতৃত্বে এই আন্দোলন কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

আরো খবর ➔
ভারতের ‘ব্রেন ড্রেন’ থেকে ‘ওয়েলথ ড্রেন’