যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারালে কতদিন বৈধভাবে থাকা যাবে? নতুন নিয়ম নিয়ে উদ্বেগ

ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারানোর পর বিদেশি কর্মীরা কতদিন বৈধভাবে দেশটিতে থাকতে পারবেন, তা নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। নতুন অভিবাসন নীতি এবং ভিসা সংক্রান্ত নিয়ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেক কর্মী ও নিয়োগকর্তা।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর হাজার হাজার বিদেশি নাগরিক বিভিন্ন কর্মভিত্তিক ভিসায় কাজ করতে যান। বিশেষ করে প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, প্রকৌশল এবং গবেষণা খাতে বিদেশি কর্মীদের চাহিদা অনেক বেশি। তবে চাকরি হারানোর পর তাদের বৈধভাবে দেশটিতে থাকার সময়সীমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী,H-1B সহ কয়েকটি কর্মভিত্তিক ভিসাধারী কর্মীরা চাকরি হারানোর পর সাধারণভাবে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড পান। এই সময়ের মধ্যে নতুন চাকরি খুঁজে নিতে, ভিসার ধরন পরিবর্তনের আবেদন করতে বা যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যেতে হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো পদক্ষেপ না নিলে তাদের অভিবাসন অবস্থান ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসন নীতির কঠোর প্রয়োগ এবং চাকরির বাজারে অনিশ্চয়তার কারণে অনেক বিদেশি কর্মী উদ্বেগে রয়েছেন। প্রযুক্তি খাতে বড় বড় প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাইয়ের পর অনেক দক্ষ কর্মী অল্প সময়ের মধ্যে নতুন চাকরি খুঁজে পাওয়ার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। নিয়োগকর্তারাও বলছেন, দক্ষ কর্মীদের ধরে রাখতে আরও নমনীয় নীতির প্রয়োজন রয়েছে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান নিয়ম নতুন নয়, তবে এর প্রয়োগ নিয়ে এখন বেশি আলোচনা হচ্ছে। কারণ চাকরি হারানোর পর মাত্র ৬০ দিনের মধ্যে নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজে পাওয়া অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক মন্দা বা বড় আকারের ছাঁটাইয়ের সময় এই চাপ আরও বেড়ে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার দক্ষ বিদেশি কর্মীদের ধরে রাখতে কিছু নীতিগত পরিবর্তন আনতে পারে। তবে একই সঙ্গে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার দাবিও রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করবে সরকারের অভিবাসন নীতি এবং শ্রমবাজারের অবস্থার ওপর।

কার্যকারিতার দিক থেকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকার ফলে অভিবাসন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় থাকে। তবে দক্ষ কর্মীদের জন্য সময়সীমা কিছুটা বাড়ানো হলে তারা নতুন চাকরি খুঁজে নেওয়ার বাস্তব সুযোগ পেতে পারেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক হতে পারে।

সব মিলিয়ে, চাকরি হারানোর পর যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকার নিয়ম বিদেশি কর্মীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই নতুন নীতিগত সিদ্ধান্ত যাই হোক না কেন, তা লাখো বিদেশি কর্মী, তাদের পরিবার এবং যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

আরো খবর ➔
Pochopení symbolismu v umění inspirovaném boho – Recenze online kasina BohoBet