কয়েক মাসেই কোটি মানুষের সমর্থন! কীভাবে জন্ম হলো ‘ককরোচ জনতা পার্টি’

কয়েক মাসেই কোটি মানুষের সমর্থন! কীভাবে জন্ম হলো ‘ককরোচ জনতা পার্টি’

ডেস্ক: মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই ভারতের লাখো তরুণের সমর্থন পেয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ । ইনস্টাগ্রামে ব্যঙ্গাত্মক একটি উদ্যোগ হিসেবে শুরু হলেও আজ এটি ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম আলোচিত প্ল্যাটফর্ম। ফারজানা মিথিলার প্রতিবেদনে দেখুন বিস্তারিত।

ককরোচ জনতা পার্টির জন্ম কোনো প্রচলিত রাজনৈতিক দল হিসেবে নয়। ২০২৬ সালে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ বাড়তে থাকে। লাখো তরুণ ন্যায্য পরীক্ষা ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানাতে রাস্তায় নামেন। সেই সময়ই আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন অভিজিৎ দিপকে।

আন্দোলনের মাঝেই ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। বিক্ষোভকারী দের তিনি “ককরোচ” বা তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করে কটাক্ষ করেন। পরে এ নিয়ে নানা ব্যাখ্যা এলেও শিক্ষার্থীদের একাংশ এটিকে অপমান হিসেবে দেখেন। সেই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতেই অভিজিৎ ইনস্টাগ্রামে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি একাউন্ট চালু করেন।

শুরুতে এটি ছিল শুধু একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রচারণা। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই লাখ লাখ তরুণ এই একাউন্টে যুক্ত হন। পরে সেই সংখ্যা কয়েক মাসের মধ্যে কোটিতে পৌঁছে যায়।

প্রথমদিকে আন্দোলনের মূল দাবি ছিল নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের শাস্তি এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা। পরে এর সঙ্গে যুক্ত হয় বেকারত্ব, সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অনিয়ম এবং সরকারের জবাবদিহির মতো বিষয়। ফলে ককরোচ জনতা পার্টি শুধু একটি প্রতীক নয়, তরুণদের ক্ষোভ প্রকাশের একটি বড় মাধ্যম হয়ে ওঠে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্ল্যাটফর্মের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক তরুণকে একত্র করা। তবে অনলাইনের জনপ্রিয়তাকে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দেওয়া সহজ হবে না। এর জন্য শক্ত সংগঠন, স্পষ্ট কর্মসূচি এবং ধারাবাহিক নেতৃত্বের প্রয়োজন হবে।

ভবিষ্যতে সরকার যদি শিক্ষা ও নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, তাহলে আন্দোলনের অনেক দাবি বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে দাবিগুলো উপেক্ষিত হলে এই আন্দোলন আরও বড় আকার নিতে পারে বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

সব মিলিয়ে, ককরোচ জনতা পার্টির জন্ম ছিল প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই এটি ভারতের তরুণদের একটি বড় আন্দোলনের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই সমর্থন ভবিষ্যতে ভারতের রাজনীতিতে কিভাবে প্রভাব ফেলে।

আরো খবর ➔
মোদির ইমেজে কলঙ্কের দাগ, এপস্টেইন ফাইলে মোদির নাম