৩৬ বছরের মধ্যে প্রথমবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারল না ব্রাজিল—ইতিহাসে নতুন হতাশা!

ডেস্ক: পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। বিশ্বকাপ মানেই যাদের নিয়ে আলাদা আশা থাকে, সেই দল এবার থেমে গেল শেষ ষোলোতেই। নরওয়ের কাছে ২–১ গোলে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে সেলেসাওরা। এর মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালের পর, অর্থাৎ দীর্ঘ ৩৬ বছর পরে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারল না ব্রাজিল

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ছিল ব্রাজিলের। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগো এবং নেইমারকে ঘিরে একের পর এক আক্রমণ তৈরি হলেও গোলের সামনে গিয়ে বারবার সুযোগ নষ্ট করে দলটি। অন্যদিকে নরওয়ে কম সুযোগ পেলেও সেগুলো কাজে লাগাতে ভুল করেনি।

কিন্তু ম্যাচের ৭৯ মিনিটে বদলে যায় সকল পরিসংখ্যান। আর্লিং হালান্ড গোল করে নরওয়েকে এগিয়ে দেন। ম্যাচের শেষ দিকে, ৯০ মিনিটে আবারও গোল করেন হালান্ড। তখন ব্রাজিলের সামনে আর ফেরার সুযোগ ছিল না। শেষ মুহূর্তে নেইমার পেনাল্টি থেকে একটি গোল করলেও তাতে শুধু ব্যবধানই কমে। শেষ বাঁশি বাজতেই ২–১ গোলে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায় নরওয়ে। আর ৩৬ বছরের মধ্যে প্রথমবার বিশ্বকাপের শেষ আটে উঠতে না পেরে হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।

এই হার শুধু একটি ম্যাচের হার নয়, এটি একটি ইতিহাসও।

১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কাছে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছিল ব্রাজিল। এরপর টানা নয়টি বিশ্বকাপে তারা অন্তত কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে। ১৯৯৪, ২০০২ সালে শিরোপা জিতেছে, ১৯৯৮ ও ২০২২ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল পেরিয়েছে, ২০১৪ সালে খেলেছে সেমিফাইনালও। কিন্তু এবার সেই ধারাবাহিকতা থেমে গেল।

ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলেন, দল তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। তিনি সমর্থকদের কাছে এই হারের জন্য দুঃখও প্রকাশ করেন।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল আক্রমণে সুযোগ নষ্ট করা এবং ডিফেন্সের ভুল। পুরো টুর্নামেন্টে তারা প্রত্যাশামতো খেলতে পারেনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই হার নিয়ে চলছে আলোচনা। কেউ কোচকে নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, কেউ আবার খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশা প্রকাশ করছেন।

তবে অনেকেই বলছেন, ব্রাজিলের মতো বড় দল আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।

শেষ পর্যন্ত বলা যায়, ব্রাজিলের ফুটবলে ইতিহাস যেমন গৌরবের, তেমনি বর্তমান হতাশারও। এখন ব্রাজিলের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ,এই হার থেকে শিক্ষা নিয়ে আবারও বিশ্ব ফুটবলের সেরা দলগুলোর কাতারে ফিরে আসা।

আরো খবর ➔
Winstler Casino: Wo liegt der Mehrwert für Spieler?