ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে আকাশপথে চলাচল আগের চেয়ে বেশি বাড়লেও, একই সঙ্গে বাড়ছে ঝুঁকিও। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ ও অস্থির অঞ্চলে “নো-ফ্লাই জোন” বাড়তে দেখা যাচ্ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোকে দীর্ঘ রুট নিতে হচ্ছে, খরচ বাড়ছে, আর যাত্রীদের সময়ও লাগছে বেশি।
প্রশ্ন উঠছে,কোন অঞ্চলগুলো হঠাৎ করে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে, আর কেনই বা এই নিষেধাজ্ঞা বাড়ছে?
২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য এবং পূর্ব ইউরোপে চলমান সংঘাতের কারণে গ্লোবাল এয়ার স্পেসে ‘নো-ফ্লাই জোন’ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে এই অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে বাণিজ্যিক বিমান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা International Civil Aviation Organization এর তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত, সামরিক উত্তেজনা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয়তার কারণে কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে বাণিজ্যিক ফ্লাইটের জন্য ঝুঁকি দ্রুত বেড়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত অঞ্চলগুলোর একটি হলো ইউক্রেন আকাশসীমা, যা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই কার্যত বাণিজ্যিক ফ্লাইটের জন্য বন্ধ। এই অঞ্চলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, মিসাইল ঝুঁকি এবং সামরিক কার্যক্রম এতটাই বেশি যে আন্তর্জাতিক
এয়ারলাইন্সগুলো এটি পুরোপুরি এড়িয়ে চলছে।
একইভাবে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অঞ্চলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।বিশেষ করে ইসরাইল,ইরাক এবং সিরিয়া এর আকাশসীমায় বিভিন্ন সময় সামরিক উত্তেজনা দেখা যায়।
এছাড়া ইয়েমেন এর ওপর দিয়েও অনেক এয়ারলাইন্স সতর্কতার সঙ্গে বা বিকল্প রুট ব্যবহার করে চলাচল করছে।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে লাল সাগর সংলগ্ন আকাশপথেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এই অঞ্চলটি ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হওয়ায় এখানে যেকোনো ঝুঁকি বৈশ্বিক বিমান চলাচলে প্রভাব ফেলে।
এশিয়াতেও কিছু সংবেদনশীল অঞ্চল রয়েছে।
যেমন—আফগানিস্তান আকাশসীমা, যেখানে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।ফলে অনেক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এই অঞ্চল এড়িয়ে চলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “নো-ফ্লাই জোন” শুধু যুদ্ধের কারণে হয় না,কখনো কখনো সামরিক মহড়া,কখনো রাজনৈতিক উত্তেজনা,আবার কখনো হঠাৎ সংঘর্ষের আশঙ্কাও এর কারণ হতে পারে।
বিশ্ব নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্লেষণ করা World Economic Forum এর মতে, বর্তমান বিশ্বে আঞ্চলিক সংঘাতগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করে, যা আকাশপথকেও সরাসরি প্রভাবিত করে।এর ফলে এয়ারলাইন্সগুলোকে রুট পরিবর্তন করতে হচ্ছে।যেমন-
ইউরোপ থেকে এশিয়ায় যাওয়ার কিছু ফ্লাইট এখন দীর্ঘ পথ ঘুরে যাচ্ছে,মধ্যপ্রাচ্যের কিছু রুট এড়িয়ে চলা হচ্ছে,
এবং কিছু ক্ষেত্রে ফ্লাইট সময় কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে।
এর প্রভাব পড়ছে খরচেও।জ্বালানি ব্যয়বাড়ছে,টিকিটের দাম বাড়ছে,এবং লজিস্টিকস জটিল হয়ে উঠছে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিরাপত্তা।
এয়ারলাইন্সগুলো এখন ঝুঁকি মূল্যায়নের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
কোনো অঞ্চলে সামান্য অনিশ্চয়তা থাকলেও তারা বিকল্প রুট বেছে নিচ্ছে।
সব মিলিয়ে, গ্লোবাল এয়ারস্পেসে “নো-ফ্লাই জোন” বাড়ার প্রবণতা একটি পরিবর্তিত বিশ্ব বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।যেখানে আকাশপথও আর সম্পূর্ণ নিরাপদ নয় বরং তা সরাসরি রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন থেকেই যায়,
এই নিষেধাজ্ঞা কি সাময়িক,নাকি ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে?
উত্তর নির্ভর করছে বিশ্ব পরিস্থিতির ওপর।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট,
নিরাপত্তার কারণে আকাশপথে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।


