ফ্রান্সে প্রতিরক্ষা প্রকল্পের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি: কারা ট্র্যাক করছে?

ডেস্ক: ইউরোপের অন্যতম সামরিক ও প্রযুক্তিগত শক্তি ফ্রান্স। দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্প শুধু ইউরোপ নয়, বিশ্বজুড়েই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে একটি বিষয় নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।তাহলো প্রতিরক্ষা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী এবং কর্মকর্তাদের ওপর নজরদারি বাড়ছে।

এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে,কারা এই নজরদারি করছে এবং কেন?

ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা খাত অত্যন্ত সংবেদনশীল।
এখানে যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, সাইবার নিরাপত্তা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সবকিছু নিয়েই কাজ হয়।

এই খাতের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে Dassault Aviation, Thales Group এবং Naval Group,যারা আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কাজ করে।

এই ধরনের প্রকল্পে যুক্ত ব্যক্তিরা স্বাভাবিকভাবেই “হাই-ভ্যালু টার্গেট” অর্থাৎ তাদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা থাকতে পারে।২০২৪-২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে ফ্রান্সে প্রতিরক্ষা প্রকল্প, সংবেদনশীল প্রযুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি বা ট্র্যাক করার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে।

মূলত বিদেশি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত গোয়েন্দা সংস্থা এবং সাইবার অপরাধী গোষ্ঠীগুলো এই নজরদারি চালাচ্ছে।

বিভিন্ন দেশ উন্নত সামরিক প্রযুক্তি অর্জনের জন্য অন্য দেশের গবেষণা ও প্রকল্প সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে চায়।ফলে প্রতিরক্ষা খাতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা নজরদারির আওতায় চলে আসতে পারেন।

ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা DGSI এ ধরনের হুমকি পর্যবেক্ষণ করে। তাদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাইবার নজরদারি এবং তথ্য চুরির চেষ্টা বেড়েছে।

আজকের দিনে নজরদারি মানেই শুধু শারীরিক অনুসরণ নয়,বরং ইমেইল হ্যাকিং,ম্যালওয়্যার,এবং ডিজিটাল ট্র্যাকিং এসবই বড় ভূমিকা রাখছে।
বিশেষ করে প্রতিরক্ষা প্রকল্পে কাজ করা ব্যক্তিদের কম্পিউটার বা নেটওয়ার্ক টার্গেট করা হয়।

ফ্রান্সের সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো রাশিয়াকে ফরাসি প্রতিরক্ষা খাতের অন্যতম প্রধান হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। রাশিয়া বিভিন্ন সাইবার গুপ্তচরবৃত্তির মাধ্যমে তথ্য চুরি ও নজরদারির চেষ্টা চালাচ্ছে। এই রাশিয়ান হ্যাকার গ্রুপটিকে ফ্রান্সের কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের তথ্য চুরির প্রচেষ্টার সাথে সরাসরি যুক্ত বলে সন্দেহ করা হয়।

এই বিষয়ে সতর্ক করে ANSSI বলছে, ফ্রান্সের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা খাত নিয়মিত সাইবার হুমকির মুখে রয়েছে।

World Economic Forumএর মতে, বর্তমান বিশ্বে তথ্যই সবচেয়ে বড় সম্পদ।বিশেষ করে সামরিক ও প্রযুক্তিগত তথ্য।এই কারণে প্রতিরক্ষা খাতে কাজ করা ব্যক্তিরা এখন শুধু প্রকৌশলী বা কর্মকর্তা নন,তারা কৌশলগত সম্পদের অংশ।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো “ইনসাইডার থ্রেট”
অর্থাৎ, কোনো প্রতিষ্ঠানের ভেতরের কেউ ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে তথ্য ফাঁস করতে পারে।
ফলে অনেক সময় অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণও বাড়ানো হয়।

এই পরিস্থিতিতে ফ্রান্স সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিরাপত্তা জোরদার করছে।
কর্মীদের জন্য নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ,ডিজিটাল সুরক্ষা ব্যবস্থা,এবং নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।

তবে এর সঙ্গে একটি বিতর্কও রয়েছে
নিরাপত্তার নামে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা কতটা সীমিত করা হচ্ছে?
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে,অতিরিক্ত নজরদারি ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে সরকার বলছে,জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।

সব মিলিয়ে, ফ্রান্সে প্রতিরক্ষা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি একটি বহুমাত্রিক বাস্তবতা।
এখানে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা, সাইবার আক্রমণ
সবকিছুই ভূমিকা রাখছে।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন থেকেই যায়,
এই নজরদারি কি পুরোপুরি নিরাপত্তার জন্য,নাকি এর পেছনে আরও জটিল প্রতিযোগিতা কাজ করছে।

উত্তর সহজ নয়।তবে একটি বিষয় পরিষ্কার,আধুনিক বিশ্বে যুদ্ধ শুধু ময়দানে নয়,বরং তথ্য ও প্রযুক্তির ভেতরেও চলছে।

আরো খবর ➔
মনের বাসনার সঙ্গে বাস্তবের অমিল তুলে ধরেছেন দীপিকা