রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা এড়াতে বিকল্প বাণিজ্য রুট—এই রুটে বাংলাদেশি মধ্যস্বত্বভোগীরা জড়িত?

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা এড়াতে বিকল্প বাণিজ্য রুট—এই রুটে বাংলাদেশি মধ্যস্বত্বভোগীরা জড়িত?

ডেস্ক: রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মানচিত্রে বড় পরিবর্তন এসেছে। সরাসরি লেনদেনের পথ সংকুচিত হওয়ায় তৈরি হয়েছে বিকল্প রুট,যেখানে পণ্য এক দেশ থেকে আরেক দেশে ঘুরে শেষ পর্যন্ত গন্তব্যে পৌঁছায়।
এই “রিরাউটিং” বা বিকল্প বাণিজ্য ব্যবস্থাকে ঘিরেই এখন প্রশ্ন,এই প্রক্রিয়ায় কি বাংলাদেশি কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা ব্যবসায়ী নেটওয়ার্ক যুক্ত রয়েছে?

রাশিয়ার উপর পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর অনেক দেশ ও প্রতিষ্ঠান সরাসরি রাশিয়ার সাথে বাণিজ্য না করে তৃতীয় দেশের মাধ্যমে লেনদেন করছে। এতে পণ্যের উৎস বা গন্তব্য আড়াল করা সহজ হয়। বিশেষ করে প্রযুক্তিপণ্য, যন্ত্রাংশ বা “ডুয়াল-ইউজ” পণ্য যেগুলো বেসামরিক ও সামরিক দুই কাজেই ব্যবহার হতে পারে এসব ক্ষেত্রে এই রুট বেশি ব্যবহৃত হয়।

International Monetary Fund। তাদের পর্যবেক্ষণের পর্দা নিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার পর কিছু দেশের সঙ্গে রাশিয়ার বাণিজ্য কমলেও, অন্য কিছু দেশের সঙ্গে হঠাৎ করেই বাণিজ্য বেড়েছে যা বিকল্প রুট ব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়।

এই রুটগুলো সাধারণত গড়ে উঠছে United Arab Emirates, Turkey, Kazakhstan বা Armenia এর মতো ট্রানজিট দেশের মাধ্যমে। এখানে পণ্য প্রথমে বৈধভাবে আমদানি হয়, তারপর আবার অন্য গন্তব্যে পাঠানো হয়।

World Trade Organization বলছে, এই ধরনের রিরাউটিং সবসময় অবৈধ নয়। অনেক ক্ষেত্রে এটি বৈধ বাণিজ্য কাঠামোর মধ্যেই হয়। তবে যদি উদ্দেশ্য হয় নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়া, তাহলে সেটি আন্তর্জাতিক নিয়ম ভঙ্গের মধ্যে পড়ে।

এখন প্রশ্ন ,বাংলাদেশি মধ্যস্বত্বভোগীরা কি এই চক্রে যুক্ত?

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা মূলত ট্রেডিং, আমদানি-রপ্তানি এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বিভিন্ন দেশে কাজ করেন। কিছু প্রবাসী ব্যবসায়ী মধ্যপ্রাচ্য বা ইউরোপের ট্রেড হাবে সক্রিয়। ফলে তাত্ত্বিকভাবে তারা এই ধরনের বাণিজ্য রুটের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে, বিশেষ করে যদি তারা ট্রেডিং বা সাপ্লাই চেইনের অংশ হন।

তবে এখন পর্যন্ত নির্দিষ্টভাবে বাংলাদেশি কোনো বড় নেটওয়ার্ক এই নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর বাণিজ্যে জড়িত এমন শক্ত প্রমাণ প্রকাশ্যে খুব কমই এসেছে।

Financial Action Task Force এর মতে, নিষেধাজ্ঞা এড়াতে প্রায়ই “ইন্টারমিডিয়ারি” বা মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবহার করা হয়, যারা পণ্য ও অর্থের প্রবাহকে জটিল করে তোলে। এতে প্রকৃত লেনদেনের উৎস ও গন্তব্য আড়াল হয়ে যায়।

এই প্রক্রিয়ায় ছোট ট্রেডিং কোম্পানি, শেল কোম্পানি বা ব্যক্তিগত ব্যবসায়ীরাও কখনো কখনো ব্যবহৃত হতে পারেন অনেক সময় তারা নিজেরাও পুরো চিত্রটি জানেন না।

বাংলাদেশি প্রবাসী ব্যবসায়ীদের একটি অংশ বলছেন, তারা বৈধ ব্যবসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন। তবে তারা স্বীকার করছেন, আন্তর্জাতিক ট্রেড এখন অনেক বেশি জটিল হয়ে গেছে। কোন পণ্য কোথা থেকে আসছে এবং কোথায় যাচ্ছে সবসময় তা পরিষ্কার থাকে না।

আরেকটি বিষয় হলো ,ঝুঁকি। যদি কোনো ব্যবসায়ী অজান্তেই নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর চক্রে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে তার জন্য আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। ব্যাংকিং লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়া, অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়া বা তদন্তের মুখে পড়ার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।

সব মিলিয়ে, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘিরে বিকল্প বাণিজ্য রুট তৈরি হয়েছে এটি এখন স্পষ্ট। এই রুটে বিভিন্ন দেশের মধ্যস্বত্বভোগী ও ব্যবসায়ী যুক্ত থাকতে পারেন।

বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রেও তাত্ত্বিকভাবে সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা থাকলেও, বড় আকারে জড়িত থাকার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনো সামনে আসেনি।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন থেকেই যায়,এই জটিল বাণিজ্য ব্যবস্থায় কে কতটা জানে, আর কে অজান্তেই জড়িয়ে পড়ছে?

উত্তর খুঁজতে প্রয়োজন আরও স্বচ্ছ তথ্য ও অনুসন্ধান।
কারণ বৈশ্বিক বাণিজ্যের এই নতুন বাস্তবতায় সুযোগ যেমন আছে, তেমনি ঝুঁকিও কম নয়।

আরো খবর ➔
বাংলাদেশ দলের জন্য সুখবর