ডেস্ক: বিদেশে কাজ করা বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের জন্য গত কয়েক বছরে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI ব্যবহারে। আগে যেখানে একটি প্রজেক্ট করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগত, এখন অনেক কাজই দ্রুত করা সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে,এই AI টুলের ওপর নির্ভরতা কতটা বাড়ছে, আর এতে কাজের মান ও ভবিষ্যৎ কতটা বদলাচ্ছে?
ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে বাংলাদেশিরা মূলত গ্রাফিক ডিজাইন, কনটেন্ট রাইটিং, ভিডিও এডিটিং, প্রোগ্রামিং এবং ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে কাজ করেন। এখন এসব ক্ষেত্রেই AI টুল ঢুকে পড়েছে। কনটেন্ট লেখায় AI, ডিজাইনে অটো জেনারেশন, কোডিংয়ে স্মার্ট সাজেশন সব মিলিয়ে কাজের গতি অনেক বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার নিয়ে কাজ করে International Labour Organization। তাদের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, AI প্রযুক্তি অনেক কাজকে সহজ করছে, তবে একই সঙ্গে কাজের ধরনও বদলে দিচ্ছে। আগে যেসব কাজ পুরোপুরি মানুষের ওপর নির্ভর ছিল, এখন সেখানে AI সহকারী হিসেবে কাজ করছে।
ফ্রিল্যান্সারদের একাংশ বলছেন, AI তাদের জন্য “গেম চেঞ্জার”। কম সময়ে বেশি কাজ করা যাচ্ছে, ক্লায়েন্টের ডেডলাইন মেনে চলা সহজ হচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, আগে দিনে ২টা কাজ করতেন, এখন ৪–৫টা করা সম্ভব হচ্ছে।
তবে এর অন্য দিকও আছে। অনেক ক্লায়েন্ট এখন কম দামে কাজ চাইছেন, কারণ তারা জানেন AI দিয়ে কাজ দ্রুত করা যায়। ফলে ফ্রিল্যান্সারদের আয়ের ওপর চাপ পড়ছে। একই কাজের জন্য প্রতিযোগিতাও বেড়ে গেছে।
ডিজিটাল ট্রেন্ড নিয়ে গবেষণা করা World Economic Forum জানিয়েছে, AI ভবিষ্যতে অনেক নতুন কাজ তৈরি করবে, আবার কিছু পুরোনো কাজ কমিয়ে দেবে। বিশেষ করে যারা শুধু বেসিক স্কিলের ওপর নির্ভর করেন, তারা বেশি ঝুঁকিতে থাকবেন।
বিদেশে থাকা বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের মধ্যে এখন দুই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
একদল AI-কে পুরোপুরি ব্যবহার করে কাজের গতি বাড়াচ্ছেন।
আরেকদল এখনও পুরোপুরি মানিয়ে নিতে পারেননি, ফলে তারা পিছিয়ে পড়ার ভয় পাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, AI নিজে কোনো সমস্যা নয়, সমস্যা হলো এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা। যদি কেউ পুরো কাজটাই AIএর ওপর ছেড়ে দেয়, তাহলে কাজের মান কমে যেতে পারে। ক্লায়েন্টও সেটা বুঝে ফেলতে পারে।
আরেকটি বড় বিষয় হলো স্কিল আপডেট। এখন শুধু বেসিক কাজ জানলেই হবে না। AI ব্যবহার করে কিভাবে ভালো মানের কাজ করা যায় সেটা জানতে হবে। অর্থাৎ, AIকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং সহকারী হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।
ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসগুলোতেও পরিবর্তন আসছে। কিছু প্ল্যাটফর্ম এখন AIজেনারেটেড কনটেন্ট নিয়ে নিয়ম করছে। আবার কোথাও AI ব্যবহার করে কাজ করলে সেটি উল্লেখ করার কথাও বলা হচ্ছে।
বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সুযোগও আছে। যারা দ্রুত নতুন প্রযুক্তি শিখতে পারছেন, তারা বেশি কাজ পাচ্ছেন। বিদেশে বসে আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের সঙ্গে কাজ করা আরও সহজ হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, AI টুল ফ্রিল্যান্সিং দুনিয়ায় বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে। নির্ভরতা অবশ্যই বেড়েছে, তবে সেটি কতটা ভালো বা খারাপ হবে তা নির্ভর করছে ব্যবহারকারীর ওপর।
শেষ পর্যন্ত, AIকে ব্যবহার করে নিজের দক্ষতা বাড়ানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ ভবিষ্যতের কাজের দুনিয়ায় টিকে থাকতে হলে মানুষ আর মেশিন দুইয়ের সমন্বয়ই হবে আসল শক্তি।


