মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে, ইরান ইস্যুতে রিপাবলিকানদের ভেতরেই চাপের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন

মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে, ইরান ইস্যুতে রিপাবলিকানদের ভেতরেই চাপের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন

ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে অভিবাসন নীতি। কারণ এই নীতির প্রভাব শুধু নতুন ভিসা আবেদনকারীদের ওপরই পড়ে না, বরং লাখো অভিবাসী পরিবার, শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ এবং স্থায়ী বাসিন্দাদের জীবনেও এর প্রতিফলন দেখা যায়।

আর যখন বিষয়টি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে হয়, তখন আলোচনা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। কারণ তার রাজনৈতিক পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশই হলো কঠোর অভিবাসন নীতি।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং প্রস্তাবিত নীতিগুলো যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাঙালি কমিউনিটির ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে?

ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গভীর শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ব্যাপক ধরপাকড় ও নির্বাসন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিল, এবং সরকারি সহায়তা গ্রহণকারী অভিবাসীদের ওপর নানারকম পদক্ষেপের কারণে বৈধ ও অবৈধ উভয় ধরনের বাংলাদেশিরাই নানা সমস্যায় পড়ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা কয়েক লক্ষ। নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, মিশিগান, টেক্সাস, ভার্জিনিয়া এবং ফ্লোরিডাসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বড় বাংলাদেশি কমিউনিটি গড়ে উঠেছে।

এই কমিউনিটির অনেকেই অভিবাসী পরিবার থেকে এসেছেন। কেউ শিক্ষার্থী হিসেবে এসেছেন, কেউ কর্মসংস্থানের জন্য, আবার কেউ পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস শুরু করেছেন।
তাই অভিবাসন আইন কঠোর হলে এর প্রভাব বিভিন্ন স্তরে পড়তে পারে।

ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী,ইতিহাসের সবচেয়ে বড় গণ-নির্বাসন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছেন প্রায় লাখ নথিপত্রহীন বা অবৈধ বাংলাদেশি। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট এর আকস্মিক অভিযানে যেকোনো সময় আটক ও নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ভয়ে দিন কাটছে তাদের।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের সবচেয়ে আলোচিত নীতিগুলোর একটি হলো সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা এবং অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও কঠোর করা।

এর ফলে নতুন ভিসা আবেদন, আশ্রয় আবেদন, গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়া কিংবা পারিবারিক পুনর্মিলনের মতো বিষয়গুলোতে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে।

বিশেষ করে যেসব বাংলাদেশি তাদের পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন, তারা প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে শুধু নেতিবাচক দিকই নয়, কিছু বাংলাদেশি ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তা ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতির কিছু অংশকে ইতিবাচকভাবেও দেখেন।

তাদের মতে, কর কমানো, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং বিনিয়োগ উৎসাহিত করার নীতিগুলো অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে পারে।আর অর্থনীতি ভালো থাকলে অভিবাসী কমিউনিটিগুলোর কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়তে পারে।

কিন্তু সমালোচকদের মতে, অভিবাসন নিয়ে কঠোর রাজনৈতিক বক্তব্য অনেক সময় অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে মানসিক চাপ এবং অনিশ্চয়তা তৈরি করে।
বিশেষ করে প্রথম প্রজন্মের অভিবাসীদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাঙালি কমিউনিটি কোনো একক রাজনৈতিক গোষ্ঠী নয়।কেউ ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে সমর্থন করেন, আবার কেউ রিপাবলিকান পার্টির অর্থনৈতিক নীতিকে পছন্দ করেন।
তাই ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি নিয়েও
বাংলাদেশি-আমেরিকানদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।

কিছু মানুষ মনে করেন, শক্তিশালী সীমান্ত নিরাপত্তা একটি দেশের জন্য প্রয়োজনীয়।
অন্যদিকে অনেকেই মনে করেন, বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া সহজ এবং কার্যকর রাখা উচিত।

আরেকটি বড় বিষয় হলো দ্বিতীয় প্রজন্মের বাংলাদেশি-আমেরিকান তরুণরা।
তারা যুক্তরাষ্ট্রেই জন্মগ্রহণ বা বড় হয়েছেন। ফলে তাদের অনেকের কাছে অভিবাসন ইস্যু শুধু রাজনৈতিক নয়, ব্যক্তিগতও।কারণ তাদের পরিবার, আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুদের অনেকেই সরাসরি অভিবাসন নীতির সঙ্গে যুক্ত।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি যেদিকেই যাক না কেন, বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে আইনগত সচেতনতা এবং সঠিক তথ্যের ওপর নির্ভর করা।
কারণ রাজনৈতিক বিতর্কের সময় গুজব এবং ভুল তথ্যও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

সব মিলিয়ে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি নিয়ে বিতর্ক শুধু ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনেই সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যেও।আর বাংলাদেশি কমিউনিটিও তার ব্যতিক্রম নয়।

আরো খবর ➔
দাউদ ইব্রাহিমের বাড়ি সাড়ে তিন কোটি টাকায় নিলাম