ডেস্ক: বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে তথ্য এখন এক ধরনের শক্তি। যুদ্ধক্ষেত্রের ছবি, লোকেশন, চলাচলের তথ্য এসব নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কেনাবেচার অভিযোগ নতুন কিছু নয়। এর একটি অংশ চলে ইন্টারনেটের গোপন অংশ, যাকে ডার্ক ওয়েব বলা হয়।
এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে,এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ বাজারে বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি?
ডার্ক ওয়েব মূলত এমন একটি অনলাইন পরিবেশ যেখানে পরিচয় গোপন রেখে বিভিন্ন ধরনের লেনদেন করা যায়।
এখানে বৈধ ও অবৈধ দুই ধরনের কার্যক্রমই থাকে। তবে যুদ্ধসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য কেনাবেচা সাধারণত অবৈধ এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত।
সাইবার অপরাধ নিয়ে কাজ করে INTERPOL। তাদের মতে, ডার্ক ওয়েব ব্যবহার করে অস্ত্র, তথ্য বা অবৈধ সেবার লেনদেন করা একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা, যেখানে বিভিন্ন দেশের ব্যক্তি বা ছোট গ্রুপ যুক্ত থাকতে পারে।
তবে এই ধরনের কাজে সরাসরি যুক্ত থাকা খুব সহজ নয়। কারণ এতে শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা নয়, নির্দিষ্ট নেটওয়ার্ক, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং উচ্চ ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতাও প্রয়োজন।
বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের মূল কাজের ক্ষেত্র সাধারণত ডিজিটাল সেবা যেমন কনটেন্ট তৈরি, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ডিজাইন বা মার্কেটিং। আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে তারা বৈধ কাজ করেই আয় করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, কিছু বিচ্ছিন্ন ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি অবৈধ কার্যক্রমে জড়াতে পারেন, তবে এটিকে পুরো ফ্রিল্যান্স কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত করা ঠিক নয়। কারণ অধিকাংশ ফ্রিল্যান্সার বৈধ প্ল্যাটফর্মে কাজ করেন এবং তাদের কাজ স্বচ্ছ ও নিয়মের মধ্যে থাকে।
সাইবার ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা Europol বলছে, ডার্ক ওয়েবের অবৈধ লেনদেনগুলো সাধারণত সংগঠিত চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এখানে ব্যক্তিগত পর্যায়ের অংশগ্রহণ থাকলেও বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে নির্দিষ্ট নেটওয়ার্ক।
এছাড়া যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য সংগ্রহ করাও সহজ নয়। এতে স্থানীয় সংযোগ, সরাসরি উপস্থিতি বা বিশেষ ধরনের অ্যাক্সেস প্রয়োজন হয়। ফলে সাধারণ ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এতে যুক্ত হওয়া বাস্তবসম্মত নয়।
তবে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ,অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কাজ করার সময় অনেকেই বুঝতে পারেন না কোন কাজ বৈধ আর কোনটি ঝুঁকিপূর্ণ। কেউ যদি সন্দেহজনক ডেটা সংগ্রহ, নজরদারি বা তথ্য বিশ্লেষণের কাজ পান, তাহলে সেটি যাচাই না করে গ্রহণ করলে সমস্যা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সচেতনতা খুব জরুরি।
কোন কাজের উদ্দেশ্য কী,ক্লায়েন্ট কে,এবং সেই কাজ আইনি কিনা,এসব যাচাই করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্স কমিউনিটির অনেকেই এখন এই বিষয়ে সতর্ক। তারা নতুনদেরও পরামর্শ দেন,অপরিচিত বা সন্দেহজনক প্রজেক্ট এড়িয়ে চলতে।
সব মিলিয়ে, ডার্ক ওয়েবে যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য বেচাকেনা একটি বাস্তব বৈশ্বিক সমস্যা হলেও এতে বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের বড় পরিসরে জড়িত থাকার মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনো সামনে আসেনি।
তবে ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ ইন্টারনেটের এই গোপন দুনিয়ায় যে কেউ ভুলভাবে জড়িয়ে পড়তে পারে, যদি সতর্ক না থাকে।
শেষ পর্যন্ত, এই ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতা।
কারণ একবার ভুল পথে গেলে এর প্রভাব শুধু ব্যক্তির ওপর নয়, পুরো কমিউনিটির ওপর পড়তে পারে।


