ডেস্ক: ফ্রিল্যান্সিংয়ে বাংলাদেশিদের অবস্থান এখন বেশ শক্ত। গ্রাফিক ডিজাইন, কনটেন্ট, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ভিডিও এডিটিং বিভিন্ন খাতে বিদেশি ক্লায়েন্টের কাজ পাচ্ছেন অনেকেই। কিন্তু একটি বড় অভিযোগ এখন সামনে আসছে, কাজ পাওয়া গেলেও সেই ক্লায়েন্টকে দীর্ঘদিন ধরে রাখা যাচ্ছে না। এক দুইটি প্রজেক্টের পরই সম্পর্ক শেষ হয়ে যাচ্ছে।
ক্লায়েন্ট রিটেনশন বা ধরে রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো কাজের ধারাবাহিকতা ও যোগাযোগ।
অনেক ফ্রিল্যান্সার প্রথম কাজটি খুব ভালোভাবে করলেও পরে একই মান ধরে রাখতে পারেন না। ফলে ক্লায়েন্ট অন্য কারও কাছে চলে যায়।
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার নিয়ে কাজ করা International Labour Organization বলছে, ফ্রিল্যান্সিংয়ে শুধু দক্ষতা নয়, দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ। ক্লায়েন্টের চাহিদা বুঝে নিয়মিত মান বজায় রাখা না গেলে কাজ টিকিয়ে রাখা কঠিন।
আরেকটি বড় কারণ হলো যোগাযোগ সমস্যা। অনেক সময় সময়মতো রিপ্লাই না দেওয়া, ক্লায়েন্টের কথা ঠিকমতো না বোঝা, বা প্রজেক্টের আপডেট না দেওয়া এসব কারণে বিশ্বাস কমে যায়। বিদেশি ক্লায়েন্টরা সাধারণত দ্রুত যোগাযোগ আশা করেন।
তৃতীয়ত, অতিরিক্ত কাজ নেওয়া। অনেক ফ্রিল্যান্সার একসাথে বেশি প্রজেক্ট নিয়ে ফেলেন। এতে করে সময়মতো কাজ শেষ করা কঠিন হয়ে যায়। ডেডলাইন মিস হলে বা কাজের মান কমে গেলে ক্লায়েন্ট আর ফিরতে চান না।
World Economic Forumএর মতে, গ্লোবাল ফ্রিল্যান্স মার্কেটে প্রতিযোগিতা খুব বেশি। একটি ছোট ভুলও ক্লায়েন্ট হারানোর কারণ হতে পারে, কারণ তাদের সামনে অনেক বিকল্প থাকে।
মূল্য নির্ধারণও একটি বিষয়। কেউ খুব কম দামে কাজ নেন, পরে সেই মান বজায় রাখতে পারেন না।
আবার কেউ হঠাৎ করে রেট বাড়িয়ে দেন, যা ক্লায়েন্টকে অস্বস্তিতে ফেলে। ফলে সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
আরেকটি বিষয় হলো পেশাদার আচরণ। সময়মতো কাজ না দেওয়া, বারবার ভুল হওয়া, বা প্রতিশ্রুতি না রাখা এসব ছোট বিষয়ও বড় প্রভাব ফেলে। ক্লায়েন্ট শুধু ভালো কাজই না, নির্ভরযোগ্য মানুষও চান।
অনেক ফ্রিল্যান্সার আবার ক্লায়েন্টের ফিডব্যাক ঠিকভাবে নেন না। একবার কাজ শেষ হলেই যোগাযোগ কমিয়ে দেন। কিন্তু সফল ফ্রিল্যান্সাররা কাজের পরও যোগাযোগ রাখেন, আপডেট দেন, নতুন আইডিয়া শেয়ার করেন এতে সম্পর্ক দীর্ঘ হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্লায়েন্ট রিটেনশন বাড়াতে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হলো,
সময়মতো এবং পরিষ্কার যোগাযোগ,
একই মান ধরে রাখা,
ডেডলাইন মেনে চলা,
এবং পেশাদার আচরণ বজায় রাখা।
এছাড়া ক্লায়েন্টের ব্যবসা বা প্রয়োজন বুঝে কাজ করলে তারা বেশি সন্তুষ্ট হন। শুধু কাজ শেষ করাই নয়, তাদের সমস্যা সমাধান করাই আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সুযোগ এখনো অনেক। কিন্তু শুধু কাজ পাওয়া নয়, সেই কাজ ধরে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে, সমস্যা দক্ষতার অভাবে নয় বরং ধারাবাহিকতা, যোগাযোগ আর পেশাদারিত্বে ঘাটতির কারণে ক্লায়েন্ট হারানোর ঘটনা বেশি ঘটছে।
শেষ পর্যন্ত, ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফল হতে হলে একবার ভালো কাজ করলেই হবে না বারবার একই মান দেখাতে হবে। কারণ ক্লায়েন্ট ধরে রাখাই আসল সাফল্য।



