ডেস্ক: একসময় মহাকাশ মানেই ছিল গবেষণা, অনুসন্ধান আর বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি। কিন্তু এখন সেই মহাকাশই হয়ে উঠছে প্রতিযোগিতা আর শক্তি প্রদর্শনের নতুন ক্ষেত্র।
স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভর করছে যোগাযোগ, ইন্টারনেট, জিপিএস, এমনকি সামরিক কার্যক্রমও। ফলে এই স্যাটেলাইটগুলোকে লক্ষ্য করে তৈরি হচ্ছে নতুন ধরনের অস্ত্র।যাকে বলা হয় অ্যান্টি-স্যাটেলাইট বা ASAT অস্ত্র।
প্রশ্ন উঠছে,কোন দেশগুলো এই প্রযুক্তি তৈরি করছে, আর এর প্রভাব কতটা গভীর?
একবার চিন্তা করুন কোন হলিউডের মুভির মত মহাকাশে স্যাটেলাইটে একে অপরের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হচ্ছে বিভিন্ন দেশ। তাদের রয়েছে বিভিন্ন স্বার্থ। এবং তাদের এই যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মানব জাতি। শুনতে কাল্পনিক মনে হল সেটা বাস্তবে রূপ নেওয়া সম্ভাবনা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমান বিশ্বের ক্ষমতালোভী ব্যক্তিবর্গ তাদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য পৃথিবীতে বিপর্যয় ডেকে আনতে চাইছে। একটা দেশ সবচেয়ে ভয়াবহ পরিকল্পনার একটি হল স্যাটেলাইট ধ্বংসের জন্য তৈরি করা অস্ত্র।
আধুনিক বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর একটি বড় অংশই স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভরশীল।ফোন যোগাযোগ,
ইন্টারনেট,ব্যাংকিং সিস্টেম,এমনকি সামরিক নজরদারি সবকিছুই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পরিচালিব্যবহার কারণে স্যাটেলাইট ধ্বংস করতে পারলে একটি দেশের বড় ধরনের ক্ষতি করা সম্ভব, সরাসরি যুদ্ধ ছাড়াই।
বর্তমানে কয়েকটি দেশ এই প্রযুক্তিতে এগিয়ে রয়েছে।
United States দীর্ঘদিন ধরে মহাকাশ প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাদের কাছে উন্নত স্যাটেলাইট সিস্টেমের পাশাপাশি সেগুলো রক্ষা ও প্রয়োজন হলে প্রতিপক্ষের স্যাটেলাইট অকার্যকর করার সক্ষমতা রয়েছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়।
Russia-ও এই প্রতিযোগিতায় সক্রিয়। বিভিন্ন সময়ে স্যাটেলাইট ধ্বংসের সক্ষমতা পরীক্ষা করার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে তারা কাজ করছে বলে ধারণা করা হয়।
China ২০০৭ সালে একটি স্যাটেলাইট ধ্বংস পরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে। সেই পরীক্ষায় মহাকাশে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ তৈরি হয়েছিল, যা এখনো ঝুঁকি তৈরি করছে।
India-ও ২০১৯ সালে একটি স্যাটেলাইট ধ্বংস পরীক্ষার কথা ঘোষণা করে। এর মাধ্যমে তারা এই প্রযুক্তি অর্জনের কথা জানায়।
মহাকাশ নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা United Nations Office for Outer Space Affairs এর মতে, মহাকাশে অস্ত্র প্রতিযোগিতা বাড়লে তা শুধু সামরিক নয়, বেসামরিক স্যাটেলাইটগুলোর জন্যও ঝুঁকি তৈরি করবে।
এই অস্ত্রগুলো বিভিন্ন ধরনের হতে পারে মিনসাইল দিয়ে সরাসরি স্যাটেলাইট ধ্বংস,ইলেকট্রনিক জ্যামিং করে সিগন্যাল বন্ধ করা,বা সাইবার আক্রমণের মাধ্যমে সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।অর্থাৎ, সব সময় বিস্ফোরণ নয় অনেক সময় অদৃশ্যভাবেও একটি স্যাটেলাইট অকার্যকর করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো “স্পেস ডেব্রিস” বা মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ। একটি স্যাটেলাইট ধ্বংস হলে তার টুকরো ছড়িয়ে পড়ে, যা অন্য স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি করে। এতে পুরো মহাকাশ পরিবেশই বিপদে পড়তে পারে।
World Economic Forum এর মতে, ভবিষ্যতে মহাকাশ হবে কৌশলগত প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র, যেখানে প্রযুক্তি, নিরাপত্তা এবং অর্থনীতি একসঙ্গে জড়িত থাকবে।
তবে এই প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টাও চলছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে মহাকাশে অস্ত্র ব্যবহার সীমিত করার আলোচনা হচ্ছে।কিন্তু এখনো কোনো শক্তিশালী বৈশ্বিক চুক্তি তৈরি হয়নি।
সব মিলিয়ে, মহাকাশ এখন আর শুধু বিজ্ঞানীদের জায়গা নয়,এটি হয়ে উঠেছে শক্তির নতুন মঞ্চ।স্যাটেলাইট ধ্বংসের সক্ষমতা যেসব দেশ তৈরি করছে, তারা ভবিষ্যতের যুদ্ধের ধরন বদলে দিতে পারে।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন থেকেই যায়,এই প্রতিযোগিতা কোথায় গিয়ে থামবে?
কারণ মহাকাশে একবার বড় ধরনের সংঘাত শুরু হলে, তার প্রভাব শুধু একটি দেশের ওপর নয় , বরং পুরো পৃথিবীর ওপর পড়বে।


