ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে এখন যুদ্ধ শুধু সীমান্তে নয়, ইন্টারনেটেও হচ্ছে। হ্যাকিং, ডেটা চুরি, সিস্টেম বন্ধ করে দেওয়া এসব নিয়ে তৈরি হয়েছে “সাইবার যুদ্ধ”।
বড় দেশগুলো নিজেদের সুরক্ষা বাড়াতে বিপুল বিনিয়োগ করছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে,বাংলাদেশি আইটি এক্সপার্টদের জন্য এটি কি নতুন সুযোগ, নাকি বড় ঝুঁকি?
বর্তমানে বাংলাদেশি আইটি পেশাজীবীরা সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, সাইবার সিকিউরিটি, নেটওয়ার্ক ম্যানেজমেন্ট ও ডেটা অ্যানালাইসিসে কাজ করছেন।
বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে রিমোট কাজের সুযোগ বাড়ার কারণে তাদের চাহিদাও বেড়েছে।
বিশ্বব্যাপী সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করে International Telecommunication Union। তাদের মতে, ডিজিটাল অবকাঠামো যত বাড়ছে, সাইবার হামলার ঝুঁকিও তত বাড়ছে। ফলে দক্ষ সাইবার বিশেষজ্ঞদের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।এই দিক থেকে বাংলাদেশি আইটি এক্সপার্টদের জন্য এটি বড় সুযোগ। যারা সাইবার সিকিউরিটি, এথিক্যাল হ্যাকিং বা ডেটা প্রটেকশনে দক্ষ, তারা আন্তর্জাতিক বাজারে ভালো কাজ পাচ্ছেন। অনেকেই বিদেশে না গিয়েই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করছেন।তবে সুযোগের পাশাপাশি ঝুঁকিও রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এমন কাজের অফার আসছে যা স্পষ্টভাবে বৈধ নয়।
যেমন—সিস্টেম টেস্টিংয়ের নামে হ্যাকিং, ডেটা সংগ্রহের নামে নজরদারি বা সন্দেহজনক সফটওয়্যার তৈরি করা।
সাইবার অপরাধ নিয়ে কাজ করা INTERPOL সতর্ক করেছে, অনেক সময় দক্ষ আইটি পেশাজীবীদের টার্গেট করে অবৈধ কাজের প্রস্তাব দেওয়া হয়। যারা যাচাই না করে এসব কাজ নেন, তারা অজান্তেই অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারেন।
আরেকটি বড় ঝুঁকি হলো “গ্রে এরিয়া” কাজ।
কিছু কাজ পুরোপুরি অবৈধ না হলেও নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। যেমন—ডেটা স্ক্র্যাপিং, ব্যক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ বা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ করা। এসব কাজে জড়ালে ভবিষ্যতে সমস্যা হতে পারে।
বিশ্ব অর্থনীতি ও প্রযুক্তি নিয়ে বিশ্লেষণ করে World Economic Forum। তাদের মতে, সাইবার নিরাপত্তা ভবিষ্যতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত। তবে এর সঙ্গে নৈতিকতা ও আইনি কাঠামো মেনে চলা জরুরি।
বাংলাদেশি আইটি কমিউনিটির অনেকেই এখন এই বিষয়ে সচেতন। তারা বলছেন,যে কোনো কাজ নেওয়ার আগে ক্লায়েন্ট যাচাই করা, চুক্তি স্পষ্ট রাখা এবং আইনি ঝুঁকি বোঝা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।এছাড়া স্কিল আপডেট করাও জরুরি। শুধু প্রোগ্রামিং জানলেই হবে না, সাইবার সিকিউরিটি, ডেটা প্রাইভেসি এবং আন্তর্জাতিক আইন সম্পর্কেও ধারণা রাখতে হবে।
তবে ইতিবাচক দিকও অনেক। বাংলাদেশি তরুণরা দ্রুত নতুন প্রযুক্তি শিখছেন। অনলাইন কোর্স, গ্লোবাল প্ল্যাটফর্ম সব মিলিয়ে তারা আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা অর্জন করছেন। এতে ভবিষ্যতে এই খাতে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্ত হতে পারে।
সব মিলিয়ে, গ্লোবাল সাইবার যুদ্ধের এই সময়ে বাংলাদেশি আইটি এক্সপার্টদের সামনে একদিকে বড় সুযোগ, অন্যদিকে সতর্ক থাকার চ্যালেঞ্জ।
সঠিক পথে থাকলে এটি হতে পারে ক্যারিয়ারের বড় অগ্রগতি। ভুল পথে গেলে তৈরি হতে পারে বড় ঝুঁকি।
শেষ পর্যন্ত, প্রযুক্তি যত শক্তিশালী হচ্ছে, দায়িত্বও তত বাড়ছে।
আর এই ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


