দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি ব্যবসা দখল সিন্ডিকেট

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি ব্যবসা দখল সিন্ডিকেট

ডেস্ক: দক্ষিণ আফ্রিকায় কয়েক দশক ধরে খুচরা দোকান, স্পাজা শপ ও পাইকারি ব্যবসায় শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা। বিশেষ করে গাউতেং, কওয়াজুলু-নাটাল ও ইস্টার্ন কেপ প্রদেশে বাংলাদেশি মালিকানাধীন ছোট দোকান স্থানীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিনত হয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিযোগ উঠছে,
সংগঠিত চক্রের মাধ্যমে দোকান দখল, চাঁদাবাজি ও জোরপূর্বক অংশীদার বানানোর মত নানা ঘটনার।

দক্ষিণ আফ্রিকায় ক্ষুদ্র খুচরা ব্যবসাকে স্থানীয়ভাবে “স্পাজা শপ” বলা হয়। এই খাতে রয়েছে তীব্র প্রতিযোগিতা।
তবে এই খ্যাতের ব্যবসায়িরা সহিংসতার সম্মুখীনও হচ্ছে অহরাহর।

South African Spaza and Tuckshop Association সংগঠনটির মতে, এইরকম সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তাদের আরো জানান, বিদেশি ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিরোধ থাকলে তা আইনি নিয়মতান্ত্রিকভাবে সমাধান হওয়া উচিত।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দেশটির জাতীয় পুলিশ সংস্থা South African Police Service জানিয়েছে, টাউনশিপ ও অনুন্নত এলাকায় খুচরা দোকানগুলো প্রায়ই সশস্ত্র ডাকাতির ঝুঁকিতে থাকে।

২০২৩ সালের অপরাধ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা কয়েক হাজার ছাড়িয়েছে।

যদিও এসব ঘটনার সবগুলো বিদেশি ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে নয়, তবু প্রবাসী উদ্যোক্তারা নিজেদের বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার পরিসংখ্যান সংস্থা Statistics South Africa-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বেকারত্বের হার ৩০ শতাংশের বেশি।

বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ বেকারত্ব, দারিদ্র্য ও সামাজিক বৈষম্য বিদেশি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়াতে পারে। অতীতে দেশটিতে বিদেশি-বিদ্বেষমূলক সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল।

বাংলাদেশি কমিউনিটির অভিযোগ,কিছু এলাকায় একই কৌশলে হামলা হয়। প্রথমে চাঁদা দাবি, পরে পণ্য লুট বা ভাঙচুর, এরপর দোকান ছাড়ার চাপ। কোথাও কোথাও মাসিক নির্দিষ্ট অঙ্কের চাঁদা না দিলে নিরাপত্তাহীনতার হুমকি দেওয়া হয়। তবে সব অভিযোগই আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত হয় না। কারণ, অনেকেই ভয় পান মামলা করলে প্রতিশোধের শিকার হতে পারেন।

বাংলাদেশ সরকারের প্রিটোরিয়াস্থ মিশন Bangladesh High Commission Pretoria জানিয়েছে, প্রবাসী ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা ইস্যু স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনায় তোলা হচ্ছে। তারা ব্যবসা নিবন্ধন, কর সংক্রান্ত কাগজপত্র হালনাগাদ রাখা এবং স্থানীয় কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সঙ্গে যুক্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, যদি “দখল সিন্ডিকেট” সক্রিয় থাকে, তবে তা মোকাবেলায় প্রয়োজন গোয়েন্দা নজরদারি, দ্রুত চার্জশিট এবং সাক্ষীর নিরাপত্তা । একই সঙ্গে ব্যবসায়িক লাইসেন্স ও মালিকানা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া ডিজিটাল ও স্বচ্ছ করা হলে জোরপূর্বক দখল কমানো সম্ভব।

এছাড়া বীমা কভারেজ, সিসিটিভি স্থাপন, এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করলে ঝুঁকি কমতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা আরো বলছেন, বিদেশি উদ্যোক্তারা স্থানীয় অর্থনীতিতে পণ্য সরবরাহ ও কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখেন তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

সব মিলিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে,বাংলাদেশিদের ব্যবসা দখলের অভিযোগ কি বিচ্ছিন্ন অপরাধ, নাকি সংগঠিত চক্র কার্যক্রম? এই পরিস্থিতির সমাধান একটাই,আইনের শাসন, স্বচ্ছ তদন্ত এবং কূটনৈতিক সমন্বয়।

নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে প্রবাসী উদ্যোক্তাদের আস্থা কমবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও রেমিট্যান্স প্রবাহেও প্রভাব ফেলতে পারে।

আরো খবর ➔
ট্রাম্পের হুমকিতে কোনঠাসা মোদি!