জালিয়াতি ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে DWP

ডেস্ক: যুক্তরাজ্যে প্রতারণা করে আর বেনিফিট নেয়া যাবে না! ভাতা জালিয়াতি ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে Department for Work and Pensions DWP। এই পরিকল্পনার আওতায় তিনটি নির্দিষ্ট ভাতা গ্রহণকারীদের ওপর প্রতিদিন সর্বোচ্চ £৩০০ পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করা হতে পারে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো বাড়তে থাকা কল্যাণ ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা এবং ভাতার অপব্যবহার বন্ধ করা।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য DWP-কে নতুন ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা ভাতা গ্রহণকারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যাচাই করতে পারবে এবং প্রয়োজনে অর্থ জব্দ করার সুযোগ পাবে। শুরুতে ইউনিভার্সাল ক্রেডিট, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট অ্যালাউয়েন্স এবং পেনশন ক্রেডিট গ্রহণকারীদের ওপর এই নিয়ম কার্যকর করা হবে।

নতুন আইনে বলা হয়েছে, কেউ যদি সরকারি ভাতায় প্রতারণা করে বা করার চেষ্টা করে, তাহলে একজন অনুমোদিত কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে সিভিল জরিমানা দিতে পারবেন। তবে জরিমানা দেওয়ার আগে কর্মকর্তাকে প্রমাণ করতে হবে যে সত্যিই প্রতারণা হয়েছে বা করার চেষ্টা করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রমাণ ছাড়া কাউকে শাস্তি দেওয়া হবে না।

নিয়ম না মানলে বিভিন্ন ধরনের জরিমানা হতে পারে। যদি কেউ তথ্য দিতে বা তথ্য শেয়ার করতে সহযোগিতা না করে, তাহলে প্রতিদিন £৩০০ জরিমানা দিতে হবে। ঋণ আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য না দিলেও প্রতিদিন £৩০০ জরিমানা হতে পারে। আবার ঋণ আদায়ের অন্যান্য নির্দেশ অমান্য করলে একবারে £৩০০ জরিমানা আরোপ করা হবে।

DWP জানিয়েছে, কাউকে জরিমানা দেওয়ার আগে প্রথমে একটি “নোটিস অব ইনটেন্ট” পাঠানো হবে। এতে প্রস্তাবিত জরিমানার পরিমাণ উল্লেখ থাকবে। যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এই নোটিশের বিরুদ্ধে কোনো আপত্তি বা ব্যাখ্যা না দেন, তাহলে পরে একটি “পেনাল্টি ডিসিশন নোটিস” জারি করা হবে, যেখানে চূড়ান্ত জরিমানার অঙ্ক উল্লেখ থাকবে।

এই নোটিশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি চাইলে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য অভ্যন্তরীণভাবে আবেদন করতে পারবেন। যদি কেউ তা না করেন, তাহলে জরিমানা চূড়ান্তভাবে কার্যকর হবে। এরপর চাইলে ট্রাইব্যুনালে আপিল করার সুযোগ থাকবে, যেখানে আদালত জরিমানা বহাল রাখতে, কমাতে বা বাতিল করতে পারে।

সরকার যদি কোনো ব্যক্তির ওপর জরিমানা আরোপ করে, তাহলে তাকে অবশ্যই লিখিতভাবে জানানো হবে। সেই নোটিশ পাওয়ার পর ২৮ দিনের মধ্যে পুনর্বিবেচনার আবেদন করার সুযোগ থাকবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে অতিরিক্ত সুদ বা লেট ফি যোগ হতে পারে, ফলে মোট অর্থের পরিমাণ আরও বেড়ে যেতে পারে।

এই নতুন নিয়মের মূল উদ্দেশ্য হলো ভাতা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও শক্তিশালী করা, জালিয়াতি বন্ধ করা এবং প্রকৃত দরিদ্র ও যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা।

আরো খবর ➔
আফগান যুদ্ধের ইতি টানছে যুক্তরাষ্ট্র